Porjotonlipi

সিলেটের মায়াবী সাদাপাথর

সৌন্দর্যের প্রাচুর্যে ভরা সিলেট বিভাগ। সবখানে ছড়িয়ে আছে দৃষ্টিনন্দন সব পর্যটনকেন্দ্র। সবুজে মোড়া পাহাড়ের কোলঘেঁষা পাথুরে নদী, ঝর্ণা, বন, চা-বাগান, নীল জলরাশির হাওর! কী নেই এখানে! সিলেটের ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর অসংখ্য পর্যটনকেন্দ্রের মধ্যে অন্যতম নয়নাভিরাম জায়গা। ভোলাগঞ্জ দেশের সর্ববৃহত্তম পাথর কোয়ারির অঞ্চল। এখান থেকে ছাতক পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে দাঁড়িয়ে ভোলাগঞ্জ রোপওয়ে অবস্থান। রোপওয়ে, পাথর কেয়ারী, নদী আর পাহাড়ে মিলে এই ভোলাগঞ্জ।

সিলেট থেকে ভোলাগঞ্জের সাদাপাথর


সিলেটের ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর এর অপরূপ শোভা

সিলেটের ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর এর দূরত্ব ৩৩ কিলোমিটার। ধলাই নদী বাংলাদেশ অংশে প্রবেশ করে দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে প্লান্টের চারপাশ ঘুরে আবার একীভূত হয়েছে। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সদরের কাছে ধলাই নদী মিলিত হয়েছে পিয়াইন নদীর সাথে। একশ একর আয়তনের রোপওয়েটি তাই পরিণত হয়েছে বিশেষ আকর্ষণীয় স্থানে। ওপারে উঁচু পাহাড়ে ঘেরা সবুজের মায়াজাল। সেখান থেকে নেমে আসা ঝর্ণার অশান্ত শীতল পানির অস্থির বেগে বয়ে চলা। গন্তব্য তৃষ্ণার্ত ধলাইয়ের বুক।

স্বচ্ছ নীল জল, সাদা পাথর আর পাহাড়ের সবুজ মিলেমিশে যেন একাকার। ধলাইয়ের বুকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা পাথরের বিছানা শোভা বাড়িয়ে দিয়েছে হাজার গুণ। সাদা পাথরের ওপর দিয়ে বয়ে চলা ঝর্ণার পানির তীব্র স্রোত নয়ন জুড়ায়। শীতল জলের স্পর্শে প্রাণ জুড়িয়ে যায় নিমিষে। পাথরের ওপর দিয়ে প্রবল বেগে বয়ে চলা পানির কলকল শব্দে যেন পাগল করা ছন্দ। বরফ গলার মতো ঠাণ্ডা সেই পানি। বেশিক্ষণ গা ভেজালে শরীরে শীতের কাঁপন লেগে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়। ছবিগুলো গত ১৮/১০/১৯ তারিখের, ১২জনের একটি গ্রুপ নিয়ে ঘুরে আসি ভোলাগঞ্জ থেকে।


যেভাবে যাবেন

দেশের যেকোন প্রান্ত থেকে রাতের নাইট কোচ বাস অথবা ট্রেনে করে সিলেট চলে আসবেন। সকালবেলা পাঁচভাই রেস্টুরেন্টে নাস্তা করে রিজার্ভ লেগুনা নিয়ে(আসা-যাওয়া) চুক্তিতে চলে যাবেন ভোলাগঞ্জ ১০ নম্বর ঘাটে। রিজার্ভ ভাড়া পরবে ১৭০০ টাকা। দরকষাকষি করতে হবে প্রচুর। পার্কিং খরচ ড্রাইভারের। সেক্ষেত্রে আমাদের জনপ্রতি ভাড়া পরে ১৪২ টাকা। নৌকা খরচ রিজার্ভ ৮০০ টাকা। যেহেতু নদীতে পানি ছিলো খুব কম তাই ১২জনকে একসাথে উঠতে দিয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এক নৌকাতে ৮ জনের বেশী উঠা নিষেধ। নৌকা খরচ জনপ্রতি ৬৬ টাকা। ব্যাস আর কোনো খরচ নেই। দুপুরের খাবার যার যার পচ্ছন্দ, সামর্থ্য অনুযায়ী ১০ নম্বরঘাট থেকে খেয়ে নিতে পারেন।

বাজেট ট্রাভেলারদের জন্য বেস্ট অপশন হবে নগরীর আম্বরখানা থেকে সাদাপাথর পরিবহন বা বিআরটিসি পরিবহনে করে ডিরেক্ট ভোলাগঞ্জ চলে যাওয়া। সেক্ষেত্রে বাস ভাড়া পরবে ৫৫-৬০ টাকা জনপ্রতি।

সতকর্তাঃ

১। প্রচুর খরস্রোতা নদী ধলাই। তাই সাঁতার কেটে নদী পার হওয়ার চেষ্টা করবেন না।
২। স্বচ্ছ পানির নীচে দৃশ্যমান পাথর খুবই পিচ্ছিল। সতর্কতার সাথে পা রাখবেন।
৩। প্রয়োজনে লাইফ জ্যাকেট নিন এবং যে কোনো প্রয়োজনে প্রশাসনের সহযোগিতা নিন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নাম্বার ( ০১৭৩০৩৩১০৩৩)।
★★ যেখানে সেখানে খাবারের প্যাকেট, ময়লা, আবর্জনা ফেলবেন না। নির্দিষ্ট স্থানে সবকিছু ফেলুন। বাংলাদেশকে সুন্দর রাখুন।

কন্টেন্ট রাইটার ও ফটোগ্রাফারঃ কাওসার আহমেদ কাইফ

-করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় সকল ভ্রমণ কেন্দ্রগুলো বন্ধ রয়েছে। এই মহামারীর সময়ে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকুন, নিরাপদে থাকুন।  

Porjotonlipi

2 comments