Porjotonlipi

রোমাঞ্চকর খৈয়াছড়া

ভ্রমণ প্রিয় বন্ধুরা কেমন আছেন সবাই? আমরা আমাদের প্রতিটি পর্বে আপনাদের সামনে বাংলাদেশের অপরূপ সৌন্দর্য তুলে ধরার চেষ্টা করছি। গত পর্বে আমরা আপনাদের সামনে তুলে ধরেছিলাম সীতাকুন্ড চন্দ্রনাথধামের কিছু সৌন্দর্যের নমুনা। তার ধারাবাহিকতায় আজ আমরা আপনাদের নিয়ে যাব সীতাকুণ্ডের পার্শ্ববর্তী এলাকা মীরসরাই। যেখানে রয়েছে প্রকৃতির এক আজব খেয়াল খৈয়াছড়া ঝর্না। খৈয়াছড়া অভিযান রোমাঞ্চকর অনুভূতিতে পরিপূর্ণ। এই অভিযানের শুরুতে যে জিনিসটা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সেটি হল সাবধানতা এবং কিছুটা সাহস। কেননা খৈয়াছড়া ঝর্ণা যেতে হলে আপনাকে বেশ কিছুটা দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে যেতে হবে। তবে একজন গাইড ছাড়া এইখানে না যাওয়াই ভালো, এতে করে আপনাদের অভিযান আরো অনেকাংশে কঠিন হয়ে পড়বে।

Khoiachora1
আপনি যদি ঢাকার দিক থেকে যান তাহলে চট্টগ্রামের মিরসরাই পার হয়ে বারটাকিয়া বাজারের আগে খৈয়াছড়া আইডিয়াল স্কুলের সামনে ঢাকা চট্টগ্রাম রোডে নামবেন। বরটাকিয়ার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পূর্ব দিকের রাস্তা ধরে দশ মিনিট হাঁটলে পথে রেললাইন পরবে, রেললাইন পার হয়ে আরো দশ মিনিট হাঁটলে ঝিরি পাবেন। ইচ্ছে করলে ঢাকা চট্টগ্রাম রোড থেকে ঝিরি পর্যন্ত আপনি সি.এন.জি নিয়েও যেতে পারবেন। ঐখান থেকে আপনাকে খৈয়াছড়া ঝর্ণার মূল ট্র্যাকিং শুরু করতে হবে। ঝিরি থেকে শেষ স্টেপ পর্যন্ত সোয়া দুই ঘন্টার মত সময় লাগবে। বৃষ্টি বা পাহাড়ি ঢল সমস্যার কারণ হতে পারে সেজন্য অবশ্যই দড়ি সাথে নিবেন, প্রয়োজনে কাজে লাগতে পারে। খৈয়াছড়া ঝর্ণা ট্র্যাকিং বাংলাদেশের অন্য ঝর্ণাগুলো থেকে একটু আলাদা। তাই সবসময় সতর্কতার সাথে পা ফেলবেন। এই অভিজানে অবশ্যই খাবার পানি, শুকনো খাবার ও প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম সাথে রাখবেন। কেননা বিপদ তো আর বলে কয়ে আসেনা। আর খাবার খেয়ে খাবারের প্যাকেট কিংবা খোসা যেখানে সেখানে ফেলে দয়া করে প্রকৃতির বারোটা বাজাবেন না।

Khoiachora2
এই ঝর্নাটি স্থানীয়দের কাছে চতল নামে পরিচিত। এই ঝর্নাটির উপরে আরো দুটি ধাপ রয়েছে, যেগুলো যথাক্রমে শিমুলতলি ও আমতলি নামে পরিচিত। এই পাহাড়ের সৌন্দর্য বর্ণনা করার কিছু নেই, নিজের চোখে না দেখলে এর সৌন্দর্য অনুধাবন করা অসম্ভব।
পর্যটকদের থাকার জন্য সীতাকুন্ডে খুব সাধারণ মানের কিছু হোটেল আছে তবে পর্যটকরা চাইলে এখানে অবস্থিত মন্দিরগুলোতে অনুমতি নিয়ে থাকতে পারেন। আর এটাই হবে এডভেঞ্চার প্রিয় ভ্রমণপীপাষুদের সবচেয়ে ভাল অভিজ্ঞতা। সীতাকুণ্ড থেকে বারটাকিয়া বাজারের দুরত্ব ১৮ কিলোমিটার। তবে থাকার জন্য ভুল করেও চট্টগ্রাম শহরকে বেঁছে নিবেন না, তাহলে শহরের যানযট ঠেলে এটুকু আসতে আপনার সারাটা দিনও নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

Porjotonlipi Desk

1 comment