Porjotonlipi

রাঙ্গামাটির অপরূপ সৌন্দর্য্য ‘ফুরোমন পাহাড়’

 

সুইজারল্যান্ড খ্যাত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জেলা রাঙ্গামাটির সৌন্দর্য সব ঋতুতেই দেখা যায়। প্রকৃতির নিবিড় আলিঙ্গনে বাঁধা রূপের রানি রাঙ্গামাটির পথে পথে রয়েছে নানান বৈচিত্র্য। রাঙ্গামাটির গহীন অরণ্যপাহাড়ি প্রকৃতির এই রূপের আকর্ষণ পর্যটকদের কাছে ভীষণ প্রিয়। তাই তো দেশ-বিদেশ থেকে হাজারো পর্যটক ছুটে আসেন প্রকৃতির এ সৌন্দর্য উপভোগ করতে।

অপরূপ সৌন্দর্য্য ‘ রাঙ্গামাটির ফুরোমন পাহাড়’

যে রূপে মুগ্ধ হয় পর্যটকরা সে রূপে রয়েছে সবুজ অরণ্যে ঢাকা পাহাড়কাপ্তাই হ্রদের বয়ে চলা স্রোতধারাযা প্রকৃতির আদি সৌন্দর্য। রাঙ্গামাটির আরও গহীনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অসংখ্য সৌন্দর্য। তেমনই অনন্য এক সৌন্দর্যের নাম “ফুরোমন পাহাড়আর সৌন্দর্যের এ পাহাড় আপনাকে বিস্মিত করবেই।

ফটোগ্রাফারঃ আলী হোসেন


রাঙামাটির ফুরোমন পাহাড়ের কিছু কথাঃ

রাঙ্গামাটি শহরের অদূরে সাপছড়ি ইউনিয়নে ফুরোমন পাহাড়ের অবস্থান। চাকমা ভাষায় ফুরোমনের অর্থ ফুরফুরে মন। এ পাহাড়ের চূড়ায় মন ফুরফুরে হয়ে যায় বলে পাহাড়ের নাম ফুরোমন। পাহাড়টির উচ্চতা ১ হাজার ৫১৮ ফুট। চূড়ায় দেখা যায় অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। পুরো রাস্তা ঝুঁকিপূর্ণ। পাহাড়ি বাঁক, খাড়া পাহাড়। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২,৬০০ ফিট উঁচুতে প্রায় ৪০০ ধাপ খাড়া সিঁড়ি বেয়ে পেয়ে যাবেন এক সমুদ্র নির্জনতা।
নির্জন পরিবেশ আর কাপ্তাই হ্রদের বিশাল জলরাশির দেখা মেলে পাহাড় থেকে। এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আপনাকে বিমোহিত করবে। ফুরোমনের চূড়া থেকে পাখির চোখে দেখা যায় কাপ্তাই লেকের বিস্তৃত জলরাশি। নীল জলরাশির কাপ্তাই লেকস্বচ্ছ নীলাভ জল আর বিস্তৃত আকাশ দেখে মনে হতে পারে পাহাড়ের মধ্যে সমুদ্রের তীরে পৌঁছে গেছেন। পুরো সৌন্দর্যই এক চোখেই দেখে নিতে পারবেন। আর ভোর শীতের সকালে দেখতে পাবেন সূর্য উদয়ের সাথে মেঘের ছুটে চলা। পাহাড়ের দক্ষিণ-পশ্চিমে চট্টগ্রাম শহরবন্দরে ভাসমান জাহাজের মাস্তুল। নৈসর্গিক সৌন্দর্যের সবটুকুই দেখা যাবে পাহাড়ের চূড়ায়।

পাহাড়ের চূড়ার উঠে ঠিক যেন মনে হবে মিশে গেছেন এই মেঘের দেশে প্রকৃতির মায়ায়
এ সৌন্দর্যের কথা শহরবাসী তেমন একটা জানে না।
ঠিক তেমনই পর্যটকদের কাছেও এখনো অপরিচিতই রয়ে গেছে
এ পাহাড়ের রূপের কথা। যাতায়াত ব্যবস্থা খারাপ হওয়ায় শুষ্ক মৌসুম ছাড়া অন্য সময়ে এখানে যাতায়াত করা কষ্টকর।

ফটোগ্রাফারঃ আলী হোসেন


কিভাবে যাবেন রাঙামাটির ফুরোমন পাহাড় –

রাঙ্গামাটি শহর থেকে সিএনজিতে সহজেই যেতে পারেন ফুরোমন পাহাড়ে। ভাড়া পড়বে রির্জাভ ২০০-৩০০ টাকা এবং লোকাল ৪০ টাকা।
শহর থেকে সিএনজিতে চলে যাবেন সদরের সাপছড়ি ইউনিয়নের শালবাগান পুলিশ ফাঁড়ি। পুলিশ ফাঁড়ির একটু পরেই দেখতে পাবেন
সাইনবোর্ডে লেখা আছে বৌদ্ধমূর্তি স্থাপনের জন্য নির্ধারিত স্থান। তার ঠিক পেছনেই দাঁড়িয়ে থাকা
ফুরোমন পাহাড় আপনাকে স্বাগত জানাবে। সাইনবোর্ডটির পাশ দিয়ে চলে যাওয়া রাস্তা ধরেই পৌঁছে যাবেন পাহাড়ের পাদদেশে।
সেখান থেকেই ওঠা শুরু করবেন পাহাড়ের চূড়ায়।
পাহাড়ের পাদদেশে যাওয়ার আগে যে সাইনবোর্ডটি রয়েছে তার পাশে বসে স্থানীয়রা পাহাড়ি নানা ফলসহ অনেক কিছু বিক্রি করে থাকেন।
পর্যটকরা চাইলেই এখান থেকে পাহাড়ি ফলও খেয়ে দেখতে পারেন।

ফুরোমন পাহাড়ের নির্দেশনা

ফুরোমন পাহাড়ের চূড়ার রয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি স্থায়ী ক্যাম্প। তার পাশেই গড়ে উঠেছে একটি বৌদ্ধ বিহার। উপরে কোন খাবারের দোকানপাট না থাকায় পাহাড়ে চড়ার আগেই পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি এবং খাবার নিয়ে উঠতে হবে। যারা ট্রেকিং করতে পছন্দ করেন তারা অবশ্যই ট্রাই করার চেষ্টা করবেনহাজারো ক্লান্ত হয়ে চূড়ায় পৌঁছে সব সৌন্দর্য্য হারিয়ে যাবে।

ভ্রমণ পাগল আলী হোসেন

 

ইতোমধ্যে পাহাড়ের রূপ উপভোগ করতে স্থানীয় তরুণদের আনাগোনা লক্ষ্য করা গেছে। তবে অপরূপা রাঙ্গামাটির ফুরোমন পাহাড় সম্পর্কে
আরও প্রচারণা দরকার। আর শহরের বাহির থেকে যারা আসবেন অবশ্যই গাইড অথবা
যাতায়াতের তথ্য নিয়ে ভ্রমণ করবেন।

আর ভ্রমণের সময় অবশ্যই মনে রাখবেন আপনার দ্বারা যেন পরিবেশ কিংবা প্রকৃতির যেন কোন ক্ষতি না হয়। তাহলেই আমাদের পর্যটন শিল্প সমৃদ্ধ হবে এবং আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম পাবে সুন্দর পৃথিবী। 

কন্টেন্ট রাইটারঃ আলী হোসেন

Porjotonlipi

1 comment