Porjotonlipi

রূপে ভরা কাপ্তাই (পর্ব-১)

কথায় আছে প্রকৃতি যাকে একবার দিতে শুরু করে তাকে ষোলকলা পূর্ণ করেই দেয়। রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলা ঠিক সেইরকম। কি নেই এতে?

পর্যটন এলাকা থেকে শুরু করে ভেজালহীন খাবার। লেকের মাছ কিংবা নদীর কোনো ফরমায়েশই আপনার বৃথা যাবেনা একবার কাপ্তাই আসলে। পাহাড়ের উচ্চতায় আর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হতে হতে যখন কাপ্তাই পৌঁছাবেন ঠিক তখনই ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যাবেন! কারণ কোনটা ফেলে কোনটায় আগে যাবেন।

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলা

কাপ্তাই লেক

যেভাবে আসবেনঃ 

চট্টগ্রাম থেকে রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলা আসতে চাইলে অবশ্যই আপনাকে ঠিক করে নিতে হবে আপনি কোন পরিবহনে আসবেন। যদি বাসযোগে আসতে চান তাহলে বহদ্দারহাট, কাপ্তাই বাস টার্মিনালে আসতে হবে। সেখান থেকে আপনি কাপ্তাই কিংবা লিচুবাগানের বাস পেয়ে যাবেন। লিচুবাগানের ভাড়া ৪৫ টাকা এবং কাপ্তাইয়ের ভাড়া ৬৫ টাকা জনপ্রতি। লিচুবাগানের বাসে আসলে আপনাকে আবার কাপ্তাইয়ের সিএনজি তে উঠতে হবে এক্ষেত্রে ভাড়া জনপ্রতি ৩০ টাকা।

আর যদি, সিএনজি করে আসতে চান তবে কাপ্তাই রাস্তার মাথা থেকে সিএনজি নিতে হবে। আপনি কাপ্তাই পর্যন্তই সিএনজি পেয়ে যাবেন। ভাড়া জনপ্রতি ৯০টাকা।

উপভোগ্য স্থানসমূহঃ

প্যানারোমা জুম রেস্তোরাঁ, প্রশান্তি পার্ক, কাপ্তাই কায়াক ক্লাব, জাতীয় উদ্যান, নেভী পিকনিক স্পট, জীবতলী সেনানিবাস বিনোদন কেন্দ্র, রিভার ভিউ পার্ক, কাপ্তাই বাধ, মাস্টারের হোটেল, লেক ভিউ আইল্যান্ড, চা বাগান, কার্গো পারাপার, কাপ্তাই লেক ভ্রমণের সুযোগ, বেরান্ন্যায়, বরগাং, কর্ণফুলী নদী।

রিভার ভিউ পার্কঃ

২০০৮ সালে প্রথম এটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কতৃক চালু করা হয়। খুব মজার বিষয় হচ্ছে উদ্বোধনের আগের দিন ঠিক দুপুরবেলা লেখিকা তার বান্ধবীসহ সেই রাস্তা দিয়েই স্কুল থেকে বাসায় ফিরছিল, চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী। পার্কের কাছাকাছি আসতেই দুইজন সেনা কর্মকর্তা আমাদের ডেকে দোলনায় বসতে বলেন এবং আমাদের কিছু ছবি তোলেন

লেখিকা ও তার ভ্রমণ সঙ্গী

পরদিন পত্রিকায় আমাদের ছবি এসেছিল পার্কের উদ্বোধন হিসেবে। এর কয়েক বছর পরই সেনাবাহিনী পার্কটির তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব ছেড়ে দেয়। মাঝে অনেক বছর কোনো রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়াই অযন্তে পড়ে ছিল পার্কের সমস্ত কিছু। ২০১৯ থেকে এই পার্ক যেন আবার তার রূপ ফিরে পায় কিছু যুবকের স্ব-উদ্যোগে। বর্তমানে এটির নামকরণ করা হয়েছে আগের নামেই রিভার ভিউ পার্ক এন্ড গ্রিন হিল রেস্টুরেন্ট। দুপুর কিংবা রাতে খাবারের ব্যাবস্থাও রয়েছে এখানে। তবে আগে থেকে যোগাযোগ করে আসলে সবচেয়ে ভালো হয়। শুধু তাই নয় রাতে ক্যাম্পিংয়ের ব্যবস্থাও রয়েছে এখানে। তবে আগে থেকে বুকিং করে রাখতে হয়। পরিবার নিয়ে পিকনিক কিংবা ক্যাম্পিং সবদিক দিক থেকেই এটি উপযোগী।

তবে ভ্রমণের সময় অবশ্যই মনে রাখবেন, আপনার দ্বারা পরিবেশ কিংবা সেখানকার মানুষজনের কোন ক্ষতি সাধিত না হয়। নিজে ভ্রমণ করুন এবং অন্যকে ভ্রমণ করার সুযোগ করে দিন।

কন্টেন্ট রাইটারঃ শাহীন সুলতানা

Porjotonlipi

Add comment