Porjotonlipi

মেঘ-পাহাড়ের লুকোচুরি, মেঘের রাজ্য নীলগিরি

সবুজের সমারোহ আর বুনটে ফুলের মাতম ঘ্রাণের টানে ছুটে চলা পাহাড় পানে। সমুদ্র পৃষ্ট থেকে ২২০০ ফুট উচ্চতায় পাহাড়ের চুড়া থেকে মেঘের কাছাকাছি গিয়ে মেঘ ছোঁয়ার ইচ্ছা থাকে তাহলে মেঘের রাজ্য নীলগিরি আপনার সেই ইচ্ছে পুর্ন করবে সহাস্যে। পরিবার কিংবা বন্ধুদের নিয়ে একান্ত সময় কাটানোর জন্য নীলগিরি অনন্য।

নৈসর্গিক সৌন্দর্য্য মেঘের রাজ্য নীলগিরি

রূপসী কন্যা নীলগিরির দীগন্ত জোড়া সবুজ পাহাড় আর মেঘের লুকোচুরির রূপ দিয়ে বিমোহিত করে রাখে ভ্রমণপিয়াসীদের। নীলগিরির চূড়া থেকে চারপাশে চোখ মেলে তাকিয়ে সারি সারি মেঘদলের পাহাড়ে আছড়ে পড়ার দৃশ্য, কী নেই নীলগিরিতে ! প্রকৃতি যেন তার সবটুকু সৌন্দর্যের ডালি সাজিয়ে বসে আছে নীলগিরির বুকে। নীলগিরির চূড়া থেকে পাহাড়ের সারির পাশাপাশি আকাশ পরিস্কার থাকলে আপনার চোখে পড়বে বগালেক, কেওক্রাডং পাহাড়, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতসহ চট্টগ্রাম বন্দর ও সাঙ্গু নদী। উঁচু পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে জুম চাষ পদ্ধতিতে জাম্বুরা, পেঁপে, জলপাই, আম, কাঁঠাল, কমলালেবু, কলা, আনারস ও পেয়ারার বন সাজিয়েছেন পাহাড়িরা।

নিরাপত্তা

নীলগিরিতে রয়েছে আর্মিদের ক্যাম্প তাই পরিবার নিয়ে ঘুরার জন্য অত্যন্ত নিরাপদ এই নীলগিরি। এই পর্যটনকেন্দ্রটি আর্মি বা সেনাবাহিনিদের দ্বারা পরিচালিত। পর্যটকদের জন্য আর্মিরা এখন আরও সুন্দর করে সাজিয়ে তুলেছেন মেঘের রাজ্য নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্রকে।
নীলগিরি চূড়ায় হেঁটে ওঠার জন্য রয়েছে নান্দনিক কারুকাজে তৈরি ওয়াক ওয়ে । নীলগিরি পাহাড়ের চূড়াতেই রয়েছে সেনাবাহিনী পরিচালিত মনোমুগ্ধকর একটি পর্যটন কেন্দ্র । এখান থেকে সহজেই নীলগিরির আসল রুপ চাক্ষুষ করা যাবে ।
পর্যটনকেন্দ্রে রয়েছে সেনাবাহিনী পরিচালিত ছিমছাম একটি রেস্টুরেন্ট । নানা ঢংয়ে পাহাড় কেটে তৈরি করা হয়েছে কয়েকটি অতীব সুন্দর প্রশস্ত চত্বর । চত্বরে বসার জন্য তৈরি করা হয়েছে নজরকাড়া নকশায় দৃষ্টিনন্দন বেঞ্চ ও শেড । যেখানে বসে অপরুপ সাজের নীলগিরিকে আপাদমস্তক দেখা যাবে অসীম আনন্দে ।

কখন যাবেন

ভিন্ন ভিন্ন ঋতুতে নীলগিরি তার রূপের পসরা সাজায় নতুন রুপে। এই রোদ এই মেঘ এই বৃষ্টি এভাবেই প্রতিদিন প্রকৃতি রুপ বদলাতে থাকে নীলগিরিতে। সারাবছরই মেঘের আনাগোনা চলতে থাকে তবে বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত ও শীতে মেঘের মেলা বসে। এইজন্য শরৎ, হেমন্ত, শীত এবং বর্ষাকালে নীলগিরি সবচেয়ে আকর্ষণীয় জায়গা। শরৎ এবং হেমন্তে নীল আকাশ ও মেঘের লুকোচুরি এবং শীতে কুয়াশার চাদরে মুড়ে থাকা চারপাশ, এ যেন প্রকৃতির এক অসাধারণ রূপ। তাই নীলগিরি যেকোন সময়ই যেতে পারবেন। তবে বর্ষায় অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হলে পাহাড় ধসের ভয় থাকে। তাই এই সময়টায় পর্যটকদের সুবিধার জন্য রাস্তা বন্ধ থাকতে পারে।

কিভাবে যাবেন

নীলগিরি যেতে দেশের যেকোন প্রান্ত থেকে প্রথমেই বান্দরবন যেতে হবে। ঢাকা থেকে বাস কিংবা ট্রেনে করে বান্দরবন যেতে পারেন। ঢাকা থেকে সরাসরি বান্দরবন যেতে কোন ট্রেন নেই। ঢাকা থেকে প্রথমে চট্রগ্রামগামী ট্রেন দিয়ে চট্রগ্রাম যেতে পারেন। চট্রগ্রাম নেমে বদ্দরহাট নামক স্থানে পূর্বানী ও পূবালী বাসে করে বান্দরবন যেতে পারবেন।
বান্দরবন থেকে নীলগিরি যেতে অনেকগুলো মাধ্যম রয়েছে। জীপ, মহেন্দ্র, সিএনজি, লোকাল বাস অথবা চান্দের গাড়ি দিয়ে যেতে পারেন নীলগিরি। পরিবার কিংবা বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে গেলে সবচেয়ে ভালো হয় রিজার্ভ গাড়ি নিয়ে নিলে। এতে নীলগিরি যাওয়ার পথের অন্যান্য জায়গায়ও ঘুরে দেখতে পারবেন।


মেঘের রাজ্য নীলগিরির পথে আকর্ষণীয় স্থান

নীলগিরি যাওয়ার পথে আরও অনেকগুলো আকর্ষণীয় রিসোর্ট ও পর্যটনকেন্দ্র রয়েছে। নীলগিরি যেতে শৈল প্রপাত ঝর্ণা, মিলনছড়ি ভিউ পয়েন্ট, চিম্বুক পর্যটন কেন্দ্র, স্বর্ণ মন্দির ও সাইরু হিল রিসোর্ট পার হয়ে যেতে হয়। আপনি রিজার্ভ গাড়ি না নিলে এইসব স্পটগুলো ঘুরে যেতে পারেন। গাড়ি ঠিক করার সময় আগে থেকেই বলে নিবেন। তবে খুব ভালো হয় যদি আগে সরাসরি নীলগিরি চলে যান। মেঘের কোলে ঘুরে আসার পথে অন্যান্য আকর্ষণীয় স্থানগুলো ঘুরে আসতে পারেন। আর যদি বিকেলে নীলগিরিতে সময় কাটাতে চান তাহলে যাওয়ার পথেই সব আকর্ষণীয় রিসোর্ট ও পর্যটনকেন্দ্রগুলো ঘুরে তারপর নীলগিরি যেতে পারেন।

নীলগিরি ভ্রমণ টিপস

১। ভ্রমণের সময় অবশ্যই সাথে করে জাতীয় পরিচয়পত্র রাখবেন।
২। অযথা রিস্ক নিবেন না।
৩। চান্দের গাড়িতে উঠার সময় ছাঁদে উঠবেন না।
৪। বান্দরবন থেকে নীলগিরি খুবই আঁকাবাঁকা পাহাড়ি রাস্তা, ভ্রমণ করার সময় সাবধান থাকুন।
৫। শৈল প্রপাত ঝর্ণার পাথুরে পথ অনেক পিচ্ছিল, নামার সময় সাবধানে থাকবেন।
৬। শৈল প্রপাত বা চিম্বুকে আদিবাসীদের তৈরি জিনিসপত্র কম দামে কিনতে পারেন।
৭। আদিবাসীদের অসম্মান হয় এমন কিছু করবেন না।
৮। কম খরচে নীলগিরি ঘুরতে চাইলে দলগত ভাবে ভ্রমণ করতে পারেন।
৯। যদি সম্ভব হয় পাহাড়ি জীবনের সোন্দর্য উপভোগ করতে এক রাত থাকবেন।

কন্টেন্ট রাইটারঃ নাজমুদ্দিন আহমেদ

Porjotonlipi

1 comment