Porjotonlipi

মির্জাপুর শাহী মসজিদ

আজ আমরা কথা বলবো মির্জাপুর শাহী মসজিদ নিয়ে। বর্তমান সময়ে পঞ্চগড় নামটা শুনলেই শুধু চোখের সামনে কাঞ্চনজঙ্গা ভেসে আসে। কিন্তু , কাঞ্চনজঙ্গা দেখার সময় হচ্ছে শীতকাল। তাহলে কি পঞ্চগড় দেখার কিছুই নেই ? যারা এটা ভেবে থাকেন তাদের বলছি কাঞ্চনজঙ্গা ছাড়াও আরও দেখার রয়েছে অনেক কিছু যেমন রয়েছে সমতল ভূমির চা বাগান, রকস মিউজিয়াম, মহারাজার দীঘি, বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট এবং এদের মধ্যে অন্যতম হলো মির্জাপুর শাহী মসজিদ। এই মসজিদ আমদের মনে করিয়ে দেয় এই বাংলার স্থাপত্য শৈলী কতটা সমৃদ্ধ। যারা পুরনো নিদর্শন, প্রাচীন স্থাপত্য দেখতে আগ্রহী তাদের জন্য এটি একটি উপযুক্ত স্থান।

৩৬৫ বছরের পুরানো মসজিদ

এই মসজিদকে একটি রহস্যময় প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন বলা যায়। এই নিদর্শনের পিছনে রয়েছে অনেক অজানা রহস্য। দেশের সর্ব উত্তরে পঞ্চগড়ের আটোয়ারি উপজেলার মির্জাপুর শাহী মসজিদ ঠিক দাঁড়িয়ে আছে তাঁর ঐতিহ্য নিয়ে।

মসজিদ নির্মাণের ইতিহাসঃ

মসজিদের নির্মাণকারি কে তা নিয়ে দ্বিমত রয়েছে। কারো কারো ধারণা মালিক উদ্দিন নামে মির্জাপুর গ্রামেরই এক ব্যক্তি মসজিদটি নির্মাণ করেছেন। আবার , অনেকে বলেন দোস্ত মোহাম্মদ নামে এক ব্যক্তি মসজিদটির নির্মাণ কাজ শেষ করেন। ১৬৭৯ খ্রিস্টাব্দে (সম্ভাব্য) নির্মিত ঢাকা হাইকোর্টের প্রাঙ্গণে অবস্থিত মসজিদের সাথে মির্জাপুর শাহী মসজিদের নির্মাণ শৈলীর মধ্যে মিল রয়েছে। তাই মনে করা হয় হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে অবস্থিত মসজিদের সমসাময়িক কালে এ মির্জাপুর শাহী মসজিদ নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। মসজিদের নির্মাণ সম্পর্কে পারস্য ভাষায় লিখিত মধ্যবর্তী দরজায় উপরিভাগে একটি ফলক রয়েছে। ফলকের ভাষা ও লিপি অনুযায়ী ধারণা করা হয় মোঘল সম্রাট শাহ্‌ আলমের রাজত্বকালে এর নির্মাণ কাজ শেষ হয়।

নির্মাণশৈলীর নিপুণতা ও কারুকাজঃ

তিন গম্বুজ বিশিষ্ট মির্জাপুর শাহী মসজিদের দৈর্ঘ্য ৪০ ফুট, প্রস্থ ২৫ ফুট। মুঘল স্তাপতরীতির বৈশিষ্ট্যে ভরপুর সুসজ্জিত মির্জাপুর শাহী মসজিদের গম্বুজের শীর্ষবিন্দু ক্রমহ্রাসমান বেল্ট দিয়ে যুক্ত। মসজিদের গায়ের টেরাকোটা ফুল এবং লতাপাতার বিভিন্ন খোদাই করা নকশা আছে, যা পর্যটকদের সহজেই আকৃষ্ট করে।

মসজিদের গম্বুজের চার কোনায় চারটি মিনার আছে। সামনের দেয়ালের দরজার দুপাশে গম্বুজের সঙ্গে মিল রেখে দুটি মিনার দৃশ্যমান। মসজিদের দেয়ালে ব্যবহার  করা ইট চিকন, রক্তবর্ণ এবং বিভিন্নভাবে অলংকৃত এবং দেয়ালের চারপাশ ইসলামি টেরাকোটা ফুল ও লতাপাতার নকশায় পরিপূর্ণ। মসজিদের তিনটি বর দরজা আছে, মসজিদের দেয়ালে কারুকার্য ও বিভিন্ন আকৃতির নকশা করা। মসজিদের ভেতরের দেয়ালে খোদাই করা কারুকার্য বিভিন্ন রঙের এবং বিভিন্ন ফুল, লতাপাতা সহ কোরআনের সংবলিত ক্যালিগ্রাফি তুলির ছোঁয়ায় সজ্জিত, যা দর্শনার্থীদের মনমুগ্ধ করে।

কিভাবে যাবেন মির্জাপুর শাহী মসজিদঃ

ঢাকা থেকে দিবারাত্রি কোচে সরাসরি আটোয়ারি  উপজেলা বাস স্ট্যান্ড যেতে হবে। আটোয়ারি থেকে বাসে মির্জাপুর ৬ কিঃমিঃ। মির্জাপুর হতে পূর্বদিকে রিকশা/ ভ্যানে ১ কিঃমিঃ গেলেই মির্জাপুর শাহী মসজিদ। রিকশাতে মসজিদ পর্যন্ত ভাড়া ১৫ – ২০ টাকা। তাছাড়া আপনি চাইলে ঢাকা কমলাপুর থেকে সরাসরি দিনাজপুর স্টেশন। দিনাজপুর থেকে কিসমত রেল স্টেশন হয়ে বাস/ রিকশা/ভ্যানে ৬ কিঃমিঃ আটোয়ারি উপজেলা।

কোথায় থাকবেনঃ

পঞ্চগড় শহরে থাকার জন্য বিভিন্ন মানের হোটেল রয়েছে। এসব হোটেল এসি/ নন এসি নিয়ন্ত্রিত। ডাবল, সিঙ্গেল রুমের ব্যবস্থা আছে এবং ভাড়া ১৫০ – ৬০০ টাকার।

কন্টেন্ট রাইটার- দেবযানী দত্ত

-করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় সকল ভ্রমণ কেন্দ্রগুলো বন্ধ রয়েছে। এই মহামারীর সময়ে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকুন, নিরাপদে থাকুন।  

Porjotonlipi Desk

Add comment