Porjotonlipi

বাংলাদেশি খাবার ফুচকা

কমবেশি সকল বাংলাদেশির প্রিয় খাবার তালিকাভুক্ত করলেই প্রথমেই আমার মাথায় আসে বাংলাদেশি খাবার ফুচকার কথা। যদিও এটি একটি স্ট্রিট ফুড, তবে সমস্ত বাংলাদেশি এবং বাংলাভাষী মানুষের জীবন থেকে আলাদা করে এই খাবারটি ভিন্ন আঙ্গিকে দেখার কোনো সুযোগ নেই।

বাংলাদেশি খাবার ফুচকা এবং মামার দোকান

যদি বাংলাদেশী খাবার ফুচকার কথা বলি!! কি থাকে এতে! কেনো এটি জনপ্রিয়? সেই কথায় আসতে গেলে বলতে হয়, ফুচকা আসলে কি!

ফুচকা

সাধারণত ফুচকা একটি স্ট্রিট্র ফুড যার বাইরের আবরণটি মুচমুচে। মুচমুচে আবরণের ভিতরে রয়েছে আলু এবং সাদা মটরশুটির পুর। এই খাবারটি তেঁতুল বা পুদিনা চাটনি দিয়ে পরিবেশন করা হয় এবং ভারতে, এটি বিকল্পভাবে পানিপুরি নামে পরিচিত। বাংলাদেশের সর্বএ এই খাবার পাওয়া যায়। এমনকি বিদেশে ও বাংলাদেশী খাবার ফুচকার জনপ্রিয়তা রয়েছে।

বাংলাদেশি খাবার ফুচকা এবং পানিপুরির পার্থক্য

ফুচকা এবং পানিপুরি নিয়ে অনেকের ভ্রান্ত ধারণা আছে। নাম ভিন্ন হওয়ায় অনেকে মনে করেন, বাংলাদেশি ফুচকা এবং পানিপুরি আলাদা দুটি খাবার। আসলে ব্যাপারটি মোটেও সঠিক নয়। পানিপুরি এবং ফুচকা আসলে একই স্বাদের ভিন্ন নামের খাবার। পার্থক্য কেবল এতটুকু, পানিপুরিতে মশলাদার বা মিষ্টি জাতীয় চাটনি থাকে, অন্যদিকে ফুচকার ভিতরে থাকে হরেক রকমের টপিংস। আজকাল রেস্তোরাঁগুলিতে হরেক রকমের ফুচকা, যেমন -চিকেন ফুচকা, চকলেট ফুচকা বিক্রি হচ্ছে। তবে বাংলাদেশি খাবার ফুচকা মাথায় আসলে সেই চিরাচরিত ঝাল ফুচকার কথা মাথায় আসবে।

মামার দোকানের ফুচকা

জীবনে প্রথম কবে ফুচকা খেয়েছি তা মনে নেই। তবে যতবারই আমি আমার প্রিয় বাংলাদেশি খাবার ফুচকা খেয়েছি, ততোবারই মনে হয়েছে মামার দোকানের মতো আর কোথাও স্বাদ পাইনি। মামার দোকানের ফুচকার স্বাদ এক কথায় অতুলনীয়। আমি জানি না মামার দোকানের ফুচকাতে যে পরিমাণ ভালবাসা এবং আবেগ মিশ্রিত হয় তা একটি পাঁচতারা হোটেলে কিংবা অন্য কোথাও পাওয়া সম্ভব কিনা।

করোনায় মামার দোকান এবং ফুচকাপ্রেমীরা

স্ট্রিটফুড হওয়ায় অনেকে এই খাবারটিকে অস্বাস্থ্যকর  মনে করেন। মহামারীর সময় স্বাস্থ্য সমস্যা বিবেচনা করে, অনেককেই ফুচকা নামক এই প্রিয় খাবারটি ছেড়ে দিতে হয়েছে। এমনকি মামার দোকানের ফুচকা বিক্রি ও বন্ধ হয়ে যায়। যে মামারা স্কুলে-কলেজে একসময়  ফুচকা বিক্রি করতো, যাদের ফুচকা খাওয়ার জন্য সবাই হুমড়ি খেয়ে পড়তো, করোনার প্রেক্ষিতে সেই সুযোগটি আর হয়ে উঠছেনা। করোনায় যেমন ফুচকা বিক্রি বন্ধ হয়, ঠিক তেমনই অনেককে স্টল হারাতে হয়।

আশা করি মহামারী কাটিয়ে সুদিন আসবে, যখন আগের মতো মামার দোকানে ঢল নামবে মানুষের। আমাদের প্রিয় মামার ফুচকা খাওয়ার আশা ব্যক্ত করে, সেই সুদিনের অপেক্ষায় আমি এই লেখাটি সকল ফুচকা প্রেমীদের জন্য উৎসর্গ করেছি।

কন্টেন্ট রাইটারঃ ফারহাত ইসলাম

-করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় সকল ভ্রমণ কেন্দ্রগুলো বন্ধ রয়েছে। এই মহামারীর সময়ে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকুন, নিরাপদে থাকুন।  

Porjotonlipi

1 comment