Porjotonlipi
Ramadan in Corona

পবিত্র রমজান ও করোনার প্রকোপ

‘রমজান মাস, যে মাসে কুরআন নাজিল করা হয়েছে, যা আদ্যোপান্ত হিদায়াত এবং এমন সুস্পষ্ট নির্দেশনাবলি সম্বলিত, যা সঠিক পথ দেখায় এবং সত্য ও মিথ্যার মধ্যে চূড়ান্ত ফায়সালা করে দেয়। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তিই এ মাস পাবে, সে যেন এ সময় অবশ্যই রোজা রাখে।’ (সূরা বাকারা-১৮৫)।

করোনায় যেভাবে কাটছে পবিত্র রমজান

করোনায় পবিত্র রমজান কিভাবে যাচ্ছে? চাঁদের পর্যায়গুলির মাসিক চক্রের উপর ভিত্তি করে একটি চন্দ্র ক্যালেন্ডার যেখানে নবম মাস হল রমজান এবং মুসলিম ধর্মালম্বীদের জন্য রমজান মাস ইবাদাতের মাস। বিশ্বব্যাপী সকল মুসলমান দিবালোকের সময় রোজা রাখা, সালাত আদায় করা ও দুঃখে একে অপরের পাশে দাঁড়ানো এমন মাস হিসাবে খ্যাত, রমজান অন্যান্য কারণেও মুসলমানদের কাছে বিশেষ। এছাড়াও রমজান মাসকে বলা হয় মুমিনদের জীবনের সেরা মাস, রহমত – বরকতের মাস, লাইলাতুল কদরের মাস, জাহান্নামের দরজা বন্ধ করার মাস।

পুরো পৃথিবী স্তব্ধ করোনা মহামারিতে। এই মহামারীর মধ্যেই চলে এল গুনাহ মাফ করার মাস রমজান। কিন্তু এবছর রমজান মাস আমাদের কাছে উপস্থিত হয়েছে একটু অন্যভাবে। করোনা মহামারির কারণে গত বছরও রমজান মাস লকডাউন এবং কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে পালিত হয়েছে। এ বছর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কিছু সুনির্দিষ্ট বিধি নিষেধ জারি করেছেন বিগত কয়েক মাসে করোনা মহামারিতে মৃত্যু হার বৃদ্ধি পাওয়ায়। 

অন্যদিকে, বৈশ্বিক স্বাস্থ্যবিষয়ক পিআর-রিভিউড সাময়িকী গ্লোবাল হেলথ প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে যুক্তরাজ্যে রমজানের উপবাসের ফলে মুসলিমদের মধ্যে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর হার বৃদ্ধি পায়নি। গত বছর পবিত্র রমজান পালনকারী ব্রিটেনের মুসলিমদের করোনাভাইরাস সংক্রমণে বেশি মৃত্যু হয়েছে; এমন কোনো প্রমাণও পাওয়া যায়নি। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইংল্যান্ডের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সংগৃহীত করোনায় মৃত্যুর ডাটা বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর ওপর রমজান মাসের আনুষ্ঠানিকতা পালনের ক্ষতিকর প্রভাব নেই। এসব এলাকায় মুসলিম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় ২০ শতাংশ।

গবেষকরা বলেছেন, মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে রমজান মাস পালনের কারণে করোনার ক্ষতিকর কোনো প্রভাব দেখা যায়নি। গবেষণা সহকারী সালমান ওয়াকার জানান, করোনাভাইরাস মহামারির ওপর রমজানের ক্ষতিকর প্রভাবের আলামত পাওয়া যায়নি।

বাস্তবে সকল ধর্মালম্বীদের বিশ্বাস তাদের আল্লাহ্, প্রভু অথবা যীশু অবশ্যই এই মহামারির প্রকোপ থেকে তার অনুসারীদের রক্ষা করবেন ।

মুসলিমদের ইবাদাতের একটি স্থান মসজিদ। কিন্তু এই বছরও বিগত বছরের ন্যায় করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবজনিত কারণে ধর্ম মন্ত্রণালয় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে পবিত্র রমজানে দেশের মসজিদগুলোতে ইফতার ও সেহরির আয়োজন করায়। এছাড়াও স্বাস্থ্যবিধি মেনে মসজিদে জামাতে নামাজ আদায় করতে ১০টি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনাগুলো হল – 

  • প্রত্যেক মুসল্লিকে অবশ্যই মাস্ক পরে মসজিদে আসতে হবে এবং মসজিদের প্রবেশদ্বারে হাত ধোঁয়ার ব্যবস্থাসহ সাবান-পানি রাখতে হবে ।

  • ওজু করার সময় কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে এবং প্রত্যেককে নিজ নিজ বাসা থেকে ওজু করে, সুন্নাত নামাজ ঘরে আদায় করে মসজিদে আসতে হবে ।

 

  • মুসল্লিদের প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্বে জায়নামাজ নিয়ে আসতে হবে।

 

  • মসজিদে কার্পেট বিছানো যাবে না।

 

  • পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আগে সম্পূর্ণ মসজিদ জীবাণুনাশক দ্বারা পরিষ্কার করতে হবে।

 

  • কাতারে নামাজে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে হবে।

 

  • মসজিদে ইফতার ও সেহরির আয়োজন করা যাবে না।

 

  • যে কোনো অসুস্থ ব্যক্তি এবং অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি জামায়াতে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত থাকবেন।

 

  • স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্দেশনা অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে ।

 

  • করোনা ভাইরাস মহামারি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য নামাজ শেষে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে খতিব ও ইমামরা দোয়া করবেন ।

সবাই নিজ নিজ বাসায় অবস্থান করলেও থেমে নেই রমজান মাসে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টা। বিগত বছরগুলোর ন্যায় এবছরও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সাহায্যের জন্য এবং ইফতারটুকু তাদের সাথে ভাগ করে নেওয়ার জন্য। 

 

  • সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের “কোভিড ১৯ – (করোনা) যোদ্ধা” নামে  একটি গ্রুপ করোনায় পবিত্র রমজান মাসে কর্মহীন মানুষের জন্য ১ টাকার বিনিময়ে ইফতারের ব্যবস্থা করেছে ।

 

  • স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মাস্তুল ফাউন্ডেশন রমজান মাসজুড়ে ৩০ হাজার মানুষকে ইফতার ও সেহেরিতে সহযোগিতা করার। গরিব-অসহায় ১ হাজার ৫শ মানুষের মধ্যে ইফতার প্যাকেট বিতরণ করেছে সংগঠনটি। 

ঠিক এভাবেই করোনায় পবিত্র রমজান মাসে পুরো বাংলাদেশ জুড়ে ছোট বড় সকল সংগঠন চেষ্টা করছে নিজেদের মতো করে গরিব, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত ছিন্নমূল মানুষের পাশে দাঁড়াতে। এই রহমতের মাসে আপনিও এগিয়ে আসুন, পাশে দাঁড়ান সেই সব মানুষের পাশে যাদের মুখে হাসি ফুটাতে পারবে আপনার একটুখানি সহমর্মিতা ও সহযোগিতা। 

কন্টেন্ট রাইটারঃ তাসনিয়া মাহবুব তৈশী

-করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় সকল ভ্রমণ কেন্দ্রগুলো বন্ধ রয়েছে। এই মহামারীর সময়ে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকুন, নিরাপদে থাকুন।  

Porjotonlipi

Add comment