Porjotonlipi

চাটগাঁও – পর্ব ১

ঐতিহ্যবাহী ‘চাটগাঁও’, যা আমাদের চট্টগ্রাম নামে পরিচিত।
এই নগরীর রয়েছে সুবিশাল ইতিহাস। বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের একটি বিশাল অংশ দখল করে আছে এই চট্টগ্রাম ও তার আশপাশের জেলাসমুহ।
চট্টগ্রামের প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে ওঠে মোগল আমলে। কয়েকটি পরগনায় বিভক্ত করে মোগলেরা ৯৪ বছর শাসন করে এই এলাকা। ১৬৬৬ সালে চট্টগ্রাম জেলা সৃষ্টি হয়। তখন থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম তথা বর্তমান তিন পার্বত্য জেলা এ চট্টগ্রাম জেলার অন্তর্ভূক্ত ছিল। ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রাম পার্বত্য এলাকা নামে আলাদা একটা প্রশাসনিক ইউনিট গড়ে উঠে এবং ১৮৮১ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের মধ্যে স্থায়ী সীমারেখা টানা হয়।

Foys-Lake
এই নগরীতে ঘুরে দেখার মত অনেক জায়গা রয়েছে। তাদের কিছু অংশ পর্যটনলিপি আপনাদের সামনে তুলে ধরবে।
ফয়েজলেক (ইংরেজি: Foy’s Lake) চট্টগ্রামের পাহাড়তলী রেলস্টেশন এর অদূরে (চট্টগ্রাম শহরের কেন্দ্র থেকে ৮ কিমি. দূরে) খুলশি এলাকায় অবস্থিত একটি কৃত্রিম হ্রদ। এটি ১৯২৪ সালে আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে কতৃপক্ষ এর তত্ত্বাবধানে খনন করা হয় এবং সেসময় পাহারতলী লেক হিসেবে পরিচিত ছিল। পরবর্তীতে ইংরেজ রেলপ্রকৌশলী ফয়-এর(Foy) নামে নামকরণ করা হয়। বর্তমানে এটির মালিকানা বাংলাদেশ রেলওয়ে্র। বেশ বড় মাপের (৩৩৬ একর জমির উপর) এই লেকটি পাহাড়ের এক শীর্ষ থেকে আরেক শীর্ষের মধ্যবর্তী একটি সংকীর্ণ উপত্যকায় আড়াআড়ি ভাবে বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে সৃষ্ট। আড়াআড়ি ভাবে নির্মিত বাঁধটি চট্টগ্রাম শহরের উত্তর দিকের পাহাড় শ্রেণীর থেকে নেমে আসা পানির প্রবাহের দিক পরিবর্তনের মাধ্যমে এই লেকটিকে সৃষ্টি করেছে। ভুতাত্ত্বিকভাবে এইসব পাহাড় শ্রেণী দুপিটিলা স্তর সমষ্টির শিলা দ্বারা গঠিত। ফয়’স লেকের পাশেই আছে চট্টগ্রাম শহরের সবচেয়ে উঁচু পাহাড় বাটালি হিল। পাহারতলী রেলস্টেশন এর দক্ষিন কোল ঘেঁষে আরেকটি কৃত্রিম হ্রদ রয়েছে। ফয়’স লেক তৈরির পূর্বে আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে কতৃপক্ষ ১৯২০ সালে এটি খনন করে। দুটি লেকই আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে দেশি বিদেশী পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়।
বর্তমানে হ্রদটিকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ নির্মাণ প্রতিষ্ঠান কনকর্ড একটি বিনোদন পার্ক স্থাপন করেছে যেখানে দর্শনার্থীদের জন্য লেকে নৌকা ভ্রমন, রেস্তোরা, ট্র্যাকিং এবং কনসার্ট এর আয়োজন করা হয়ে থাকে। বর্তমানে এখানে বিরল প্রজাতির পাখি এবং ডিয়ার পার্কে হরিণ দেখার ব্যবস্থা আছে। ফয়’স লেকের পাশেই অবস্থিত চট্টগ্রামের চিড়িয়াখানা। এছারাও দর্শনার্থীরা কটেজ ভাড়া করে থাকতে পারেন। ফয়’স লেকের আশেপাশের মনোরম পরিবেশ এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আকর্ষণে প্রতি বছর দেশি বিদেশি বহু পর্যটক ছুটে আসেন।

Foys-Lake1

জাতি-তাত্ত্বিক যাদুঘর বাংলাদেশের চট্টগ্রাম শহরের আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত একটি অন্যতম দর্শনীয় স্থান। এই জাদুঘরটি মূলত দেশের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর উত্তরাধিকার ও তাদের জীবনপ্রণালী সম্পর্কে দর্শনার্থীদের ধারণা দেওয়ার নিমিত্তে প্রতিষ্ঠিত। এটি গবেষণাকাজেও ব্যবহৃত হয়ে থাকে। চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা আগ্রাবাদে অবস্থিত এই জাদুঘরটি ১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই এটি পরিদর্শনের জন্য খুলে দেওয়া হয়।

Ethnological-Museum

কমনওয়েলথ ওয়ার সেমেট্রি চট্টগ্রামেরদামপাড়া এলাকায়, ১৯ নং বাদশা মিয়া সড়কে অবস্থিত। এটি চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে ২২ কিমি উত্তরে এবং চট্টগ্রাম বন্দরথেকে ৮ কিমি দূরে অবস্থিত। ওয়ার সেমেট্রির প্রতিষ্ঠাকালে এই এলাকাটি একটি বিশাল ধানের ক্ষেত ছিল, যদিও বর্তমানে এটি বেশ উন্নত এলাকা এবং শহরের প্রানকেন্দ্র হিসেবে পরিগনিত।

War-Cemetry

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তি সময়ে ব্রিটিশ সেনাবাহিনী চট্টগ্রাম ওয়ার সেমেট্রি প্রতিষ্ঠা করে। সূচনালগ্নে এখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত সৈন্যদের প্রায় ৪০০টি কবর ছিল। তবে বর্তমানে এখানে ৭৩১ টি কবর বিদ্যমান যার ১৭টি অজানা ব্যক্তির। এখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত জাতীয় বিদেশী সৈন্যদের প্রায় ২০টি (১জন ডাচ এবং ১৯জন জাপানি) সমাধি বিদ্যমান। এছাড়া এখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের (১৯৩৯-১৯৪৫) চট্টগ্রাম-বোম্বের একটি স্মারক বিদ্যামান।

Porjotonlipi Desk

Add comment