Porjotonlipi

চকবাজারের ইফতার গপ্পো

ঢাকা জেলা বাংলাদেশের একটি অতি প্রাচীন প্রশাসনিক এলাকা যার ইতিহাস কয়েক শতাব্দী প্রাচীন। আর এই প্রাচীন নগরী ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ইফতারের প্রাণকেন্দ্র চকবাজার। মুঘল ধাঁচের রন্ধনশৈলীই হচ্ছে চকবাজারের ইফতার এর প্রধান আকর্ষণ। সেখানকার চোখে পড়ার মতো ব্যাপার হল প্রতিটি খাবারে তেল, ঘি, মসলা ইত্যাদির আধিক্য।

চকবাজারের বাহারি ইফতার

ছবিঃ শাফকাত আমীন
ছবিঃ শাফকাত আমীন

যদিও চিকিৎসকরা সারাদিন রোজা রাখার পর অভুক্ত পেটে এ ধরনের তৈলাক্ত খাবার গ্রহণকে একদমই উৎসাহিত করেন না। কিন্তু তাতে কি, ভোজন রসিক জাতি কি আর সেই বাড়ন মানে? প্রথম রোজা থেকে শুরু করে ঈদের চাঁদ ওঠার আগ পর্যন্ত চকবাজারে মানুষের লাগামহীন ভিড় লেগেই থাকে।

ছবিঃ শাফকাত আমীন
ছবিঃ শাফকাত আমীন

এখানকার স্থানীয় লোকজন ধারণা করে থাকে যে, ঢাকার দেওয়ান মুর্শিদ কুলি খাঁ ১৭০২ সালে চকবাজারকে আধুনিক বাজারে পরিণত করেন। তখন থেকেই চকবাজারে প্রতি রমজানে জমকালো ইফতারির বাজার বসে এবং সেই সময় থেকে আজ অবধি এই ধারা চলে আসছে। যুগ যুগ ধরে এখানে চলে আসছে ইফতার তৈরির একই ধারা। জালি কাবাব, আস্ত মুরগির রোস্ট, কবুতর রোস্ট, বটি কাবাব, জালি কাবাব, সুতি কাবাবের পাশাপাশি চকবাজারে এখন জায়গা করে নিয়েছে কোয়েল পাখির রোস্ট, খাসির লেগ রোস্ট, দই-বড়া ইত্যাদি আইটেম। এছাড়া প্রতি বছর বিশেষ আয়োজন হিসেবে যোগ হচ্ছে আরো নানা ধরণের খাবার।

ছবিঃ শাফকাত আমীন
ছবিঃ শাফকাত আমীন

হাজারো খাবারের ভিড়ে চকবাজারের অন্যতম আকর্ষণ হল বড় বাপের পোলায় খায়। এই এলাকায় খাদ্যপণ্যটির বেশ কয়েকজন কারিগর রয়েছেন। স্থানীয়দের মতে, এ পণ্যের সবচেয়ে ভালো কারিগর হাজী শহীদ বাবুর্চি। নিজের হাতে বানানো ‘বড় বাপের পোলায় খায়’ সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি পুরান ঢাকার শত বছরের ঐতিহ্যবাহী খাবার। তৈরি হয় ৩৬ প্রকারের উপকরণ আর ১৮ রকমের মসলা দিয়ে। যা নাকি খুব সহজেই রোজাদারদের সারা দিনের খাবারের পুষ্টি যুগিয়ে থাকে।

Porjotonlipi Desk

Add comment