Porjotonlipi

গুনাইঘর বায়তুল আজগর সাত গম্বুজ জামে মসজিদ

বাংলাদেশ মুসলিম প্রধান দেশ এবং এখানে রয়েছে অসংখ্য ছোট বড় মসজিদ। ঐতিহ্যবাহী মসজিদগুলো নিয়ে পর্যটনলিপি তার নিজস্ব ভঙ্গিতে বর্নণা করবে না সেটা কি হয়! আর সেই কথা মাথায় রেখে আজ আমরা আপনাদের নিয়ে যাব ‘গুনাইঘর বায়তুল আজগর সাত গম্বুজ জামে মসজিদ’ এ।

গুনাইঘর সাত গম্বুজ জামে মসজিদ

গুনাইঘর জামে মসজিদ এর অবস্থান

গুনাইঘর বায়তুল আজগর সাত গম্বুজ জামে মসজিদটি কুমিল্লা জেলা সদর থেকে উত্তর-পশ্চিম কোনে দেবিদ্বার পৌর এলাকায় এবং দেবিদ্বার সদর থেকে দু’কিলোমিটার পশ্চিম দক্ষিণে গুনাইঘর গ্রামে অবস্থিত।

Gunaighor-Mosque1

নির্মাণকাজ

২০০২ সাল হতে মসজিদটি নির্মাণ কাজ শুরু হয় এবং নির্মাণ কাজ শেষ হয় ২০০৫ সালে। ইঞ্জিনিয়ার মনজুরুল আহসান মুন্সি, কুমিল্লা – ৪ আসনের বিএনপি’র সাংসদ এবং তার আর্থিক সহায়তায় মসজিদটি নির্মিত হয়। মসজিদটি উদ্ভোধন করেন বিএনপি সরকারের সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডঃ খন্দকার মোশারফ হোসেন।

নির্মাণ শৈলী

মসজিদটির স্থপতি হলেন শাহিন মালিক। গুনাইঘর বায়তুল আজগর সাত গম্বুজ জামে মসজিদ কে নির্মাণশৈলীর দিক থেকে বাংলাদেশের বিখ্যাত মসজিদগুলোর ভেতর একটি বলে দাবি করা হয়ে থাকে। নতুন এবং পুরাতন নির্মাণ পদ্ধতির সংমিশ্রণে অসংখ্য ক্যালিগ্রাফিতে আঁকা ব্যাতিক্রমধর্মী নির্মাণ শৈলির সাত গম্বুজ মসজিদটি দেশব্যপী দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এ মসজিদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য ক্যালিগ্রাফি ও নির্মাণ কৌশল। মসজিদটি নির্মাণের সময় ইট, বালু, সিমেন্ট এর পাশাপাশি চিনামাটি ও স্টাইলস ব্যবহার করা হয়েছে।

Gunaighor-Mosque

বিস্ময় ও ক্যালিওগ্রাফি

এখানে বাংলা ও আরবিতে ক্যালিওগ্রাফি করা হয়েছে। কারুকাজ ও নকসা শিল্পী হিসাবে কাজ করেছেন শিল্পী আরিফুর রহমান। মসজিদটির স্থপতি ছিলেন শাহিন মালিক। আরবি অক্ষরে সুন্দর করে লিখা হয়েছে ‘সুরা আর রহমান’, ‘আয়তুল কুরছি’ ও ‘চার কূল’। মসজিদের ভেতরের মূল অংশে ৫টি গম্বুজ আছে। একটিতে লিখা আয়তুল কুরসী। অন্য চারটি গম্বুজের ভেতরে লিখা ৪টি কূল। মসজিদটির বাহিরের আবরনে বহু চাঁদ তারা আঁকা রয়েছে। মসজিদটিতে ইট, সিমেন্ট, বালির পাশাপাশি চিনামাটি ও টাইলস ব্যবহৃত হয়েছে। কারুকার্য করা হয়েছে মোঘল তুর্কী ও পারস্যের সংমিশ্রণে। এখানে ৩ শত ৫০ মন চিনামাটির টুকরো ও দু’শতটি গ্লাস ব্যবহার করা হয়েছে। মসজিদটিতে ৬টি এসি ও একটি ঝারবাতি আছে।

স্থাপনা

মসজিদটির দৈর্ঘ্য ৪৮ ফুট, প্রস্থ ৩৬ ফুট। ৭ টি গুম্বুজ, ৪ টি সুউচ্চ মিনার রয়েছে। মসজিদের চার কোনায় চারটি মিনার রয়েছে। চার মিনারের কোন মসজিদ বাংলাদেশে এটাই প্রথম বলে মনে করা হচ্ছে। মিনারগুলোর উচ্চতা ৮০ফুট। এতে গম্বুজ রয়েছে ৭টি। মসজিদটি ৪৮ফুট দৈর্ঘ্য ও ৩৬ফুট প্রস্থ বিশিষ্ট। এ মসজিদের মূল অংশে শতাধিক মুসুল্লি নামাজ পড়তে পারেন। এ ছাড়া মসজিদটির বারান্দায় অর্থাৎ সামনের টাইলস করা খালী জায়গায় মূল অংশের দ্বিগুণ মুসুল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। মসজিদের উপরে আলোকসজ্জার ব্যবস্থা রয়েছে। এতে বিভিন্ন রং’র বৈদ্যুতিক বাতি ব্যবহার করা হয়েছে। মসজিদে লিখা ‘আল্লাহু’ শব্দটি রাতের অন্ধকারে তারকার মতো জ্বল জ্বল করে জ্বলতে থাকে। অনেক দূর থেকে এ আলো দেখা যায়। মসজিদটি’র পশ্চিম পার্শ্বে দৃষ্টি নন্দিত একটি ফল ও ফুলের বাগান আছে। এছাড়াও রয়েছে বিশাল আকৃতির জলধার। এর পাড়সহ চার দিক শ্বেত পাথরে মোড়ানো।

Gunaighor-Mosque3

যেভাবে যাবেন গুনাইঘর জামে মসজিদ

প্রথমে আমরা চলে যাব সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড। সেখান থেকে আপনি চাইলে সরাসরি দেবিদ্বার কিংবা কুমিল্লা হয়েও দেবিদ্বার যেতে পারেন। তিশা, এশিয়া, প্রিন্স ইত্যাদি পরিবহন সারাদিন ঢাকা – কুমিল্লা কিংবা ঢাকা – দেবিদ্বার রূটে চলাচল করছে এবং এইসব বাসের ভাড়া ২০০-২৫০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

দেবিদ্বার বাসস্ট্যান্ড পৌঁছানোর পর আপনি সেখান থেকে সিএনজি অটোরিক্সা কিংবা রিক্সা যোগে চলে যেতে পারেন গুনাইঘর গ্রামে, যার দূরত্ব প্রায় দুই কিলোমিটার। সেখানে গেলেই আপনি পেয়ে যাবেন সেই নয়নাভিরাম ‘গুনাইঘর বায়তুল আজগর সাত গম্বুজ জামে মসজিদ’।

কন্টেন্ট রাইটারঃ তাসনিয়া মাহবুব তৈশী

Porjotonlipi Desk

Add comment