বন্ধুরা পর্যটনলিপি আজ আপনাদের সামনে তুলে ধরবে বাংলার অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভুমি ‘বিছানাকান্দি’। যারা এই জায়গা সম্পর্কে ইতিমধ্যেই জানেন বা ঘুরে এসেছেন তারা নিজেদের স্মৃতিগুলো আরো একবার একটু মনে করতে থাকেন। আর যারা এই জাগার নাম এর আগে কখনই শুনেন নি বা বিছানাকান্দি দেখা হয়নি তারা দুচোখ ভরে দেখে নিন বাংলার এই সৌন্দর্য।
শুরুতেই আপনাদের জানিয়ে রাখি বিছানাকান্দিতে থাকার কোনো ব্যবস্থা নেই। এক্ষেত্রে সিলেট শহরে থাকার মতো অনেক উন্নতমানের হোটেল গড়ে উঠেছে। সিলেট শহর থেকে বিছানাকান্দিতে দিনে গিয়ে দিনে ফেরা যায়। আর এই ধরণের ভ্রমণে অবশ্যই সাবধানতা অবলম্বন করবেন, কেননা একটি দুর্ঘটনা আপনার ভ্রমনের সবটুকু আনন্দ কেড়ে নিতে পারে। এখানে পানিতে নামতে হলে কিছু সাবধানতা অবলম্বন করা উচিৎ। সীমান্তের ওপাড় থেকে আসা স্রোতের বেগ অনেক বেশী ক্ষিপ্র থাকে। এ স্রোতে না বুঝে নেমে পড়লে পাথরের ফাঁকে পড়ে গিয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন। ভ্রমনের সময় অবশ্যই মনে রাখবেন আপনার দ্বারা এমন কোন কাজ যেন না ঘটে যা আমাদের প্রকৃতি, পরিবেশ এবং আমাদের পর্যটন শিল্পের জন্য হুমকি স্বরুপ।

Bichanakandi1

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি সিলেটে অবস্থিত বিছানাকন্দি। বেশ কয়েক বছর ধরে এখানে বেড়েছে পর্যটকের আনাগোনা। কয়েক বছর আগেও স্থানটি লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকলেও বর্তমানে এটি বেশ পরিচিত ভ্রমণ পিপাসু মানুষের কাছে। বিশেষ করে দলবল নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি উপযুক্ত স্থান এই বিছনাকান্দি।
সিলেট শহরের বিমানবন্দর রোড ধরে বিছানাকান্দির পথ। দু’পাশের সবুজ চা বাগান পেছনে ফেলে আপনাকে যেতে হবে গন্তব্যে। এই পথ ধরে গেলে মনে হবে, পুরো পৃথিবীটাই যেন সবুজের রাজ্য। আর আঁকা বাঁকা পাহাড়ি উঁচুনিচু পথটাকে কেউ বড় অজগর বলেও ভুল করতে পারেন।

Bichanakandi3
সিলেট শহর হতে ৬০ কিলোমিটার উত্তর পূর্বে গোয়াইনঘাট উপজেলার রুস্তমপুর ইউনিয়নে বিছানাকান্দি গ্রাম। সিলেট থেকে ভোলাগঞ্জ মহাসড়ক ধরে সালুটিকর বাজারের ডান দিকে গাড়ী নিয়ে গোয়াইনঘাট লিঙ্ক রোডে হয়ে দেড় ঘণ্টা গেলেই আপনি পৌঁছে যাবেন বিছানাকান্দি। এক্ষেত্রে শহরের আম্বরখানা থেকে সিএনজি নিলে সহজে এবং কম খরচে বিছানাকান্দি যাওয়া যায়। হাদারপাড় বাজার পর্যন্ত জনপ্রতি ভাড়া ৮০ টাকা। সেখানে পৌঁছুতে লাগবে কমবেশি দেড় ঘণ্টা। বাজারের পাশেই খেয়াঘাট। ঘাট থেকে নৌকা রিজার্ভ করে যাওয়া যায় বিছানাকান্দি। দর কষাকষি করে ৫০০ টাকার মধ্যে নৌকা রিজার্ভ করা যায়। যদিও পর্যটকদের কাছে অতিরিক্ত ভাড়া হাঁকানোর নজির এখানকার মাঝিদের আছে। তাই আগে থেকে ভাড়া ঠিক করে নেয়া ভলো।
নৌকায় যেতে যেতে দেখতে পাবেন দু’পাশে সবুজ গ্রামের প্রতিচ্ছবি। সাথে দূরে মেঘালয়ের পাহাড় গুলো দেখে অতি নীরস লোকটিও যদি একটু রসিকতা করে, তবে অবাক হওয়ার কিছু নেই। সেটিই যেন স্বাভাবিক। নৌকা যতই আগাবে সামনের দিকে আপনি ততই অবাক হতে বাধ্য। নদীর ধার ঘেঁষে মাঝে মাঝে উঁচু করে স্তূপ আকারে জমিয়ে রাখা হয়েছে সাদা, কালো ও বাদামি পাথরের চাঁই। মনে হবে সবুজ পাহাড়ের কোলে আরেক সাদা পাহাড়।

Bichanakandi2
নৌকায় প্রায় পনের মিনিট ভ্রমণের পরই দেখা মিলবে বিছানাকান্দির। সীমান্তের ওপার থেকে বয়ে আসা স্বচ্ছ জলধারা বড় বড় পাথরের ফাঁকে আপনাকে নিয়ে যাবে মায়ার স্রোতে। পাথরের বুকে শীতলের আলিঙ্গনে কিছুক্ষণের জন্য হলেও ভুলে যেতে পারবেন শহরের মায়া। স্রোতের মধ্যে ডুবন্ত পাথরের উপর দাঁড়িয়ে উপভোগ করতে পারবেন অন্য এক রাজ্য। যেখানে এপারের প্রকৃতি ওপাড়ের পাহাড়ের সাথে যেন মিতালী করছে গভীর মমতায়। আকাশে ভাসমান মেঘের নেই সীমানা। সেই মেঘেদের পাহাড়ের কোলে ভেসে বেড়ানোর দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন এখানে। সেই সাথে হিম শীতল পানিতে নিজের শরীরের সাথে ভিজবে আপনার মনও।

Share.

Leave A Reply