আজ আপনাদের সামনে তুলে ধরব বাংলাদেশের একমাত্র সোয়াম্প ফরেস্ট ‘রাতারগুল’। হয়তো অনেকেই সেখানে গিয়েছেন কিন্তু যারা এখনো যাননি কিংবা যাদের এখনো তেমনভাবে আমাদের এই সুন্দর দেশটার সৌন্দর্য দেখাই হয়নি, মূলত তাদের কথা চিন্তা করে আমাদের এই আজকের প্রতিবেদন।

Ratargul
রাতারগুলে যেতে চাইলে প্রথমে সড়কপথে বা ট্রেনে করে সিলেটে পৌছাতে হবে এবং সেখান থেকে ১.৩০ – ২ ঘন্টার সড়কপথে রাতারগুল পৌছাতে পারবেন। রাতারগুল সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলায় অবস্থিত। সিলেট জেলা সদর হতে সড়ক পথে দুরুত্ব মাত্র ৫৬ কি.মি। সিলেট থেকে যাতায়াত সিলেট থেকে আপনি বাস/ মাইক্রোবাস/ সিএনজি চালিত অটোরিক্স্রায় যেতে পারেন জাফলং এ। সময় লাগবে ১ ঘন্টা হতে ১.৩০ ঘন্টা। ভাড়াঃ বাস -জনপ্রতি ৫৫ টাকা মাইক্রোবাস- ১৭০০-২০০০/-টাকা সি এন জি চালিত অটো রিক্সাঃ ৭০০/ টাকা।

Ratargul2

সিলেট শহর থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার দূরে গোয়াইনঘাটের ফতেহপুর ইউনিয়নে, গুয়াইন নদীর দক্ষিণে এই বন অবস্থিত। প্রথমে গাড়ির পথ। তারপর ইঞ্জিন চালিত নৌকা দিয়ে বনের কাছাকাছি গিয়ে ডিঙ্গি নৌকায় করে বনে ঢুকতে হবে।
বাংলাদেশের একমাত্র জলাবন যা কিনা রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট নামে পরিচিত। বছরে ৪ থেকে ৫ মাস পানির নিচে ডুবে থাকে এই বন। বর্ষায় এর সৌন্দর্য চোখে পরার মতো। এসময়ই দেশি বিদেশী পর্যটকদের আনাগোনায় মুখরিত থাকে বনটি। কিন্তু শুষ্ক মৌসুম ছাড়া বাকি সময়টুকুতে কোমর জলে ডুবে থাকা বনটির সৌন্দর্যও নেহাত কম নয়।

Ratargul3
বনে ঘোরার একমাত্র মাধ্যম ডিঙ্গি নৌকা। তবে বর্ষা এবং ‘কোমর পানির’ মৌসুমে ঘোরার মধ্যে পার্থক্যটা এই দুই সময়ে এখানে না আসলে বোঝা মুশকিল। ডিঙিতে চড়ে বনের ভিতর ঘুরতে ঘুরতে দেখা যাবে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। এ বনটি মূলত সাপের জন্য বিখ্যাত। ডিঙ্গিতে ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎই চোখে পরে যেতে পারে গাছে পেঁচিয়ে থাকা কোনো সাপ। আবার কপাল ভালো থাকলে দেখা হয়ে ডেতে পারে একদল বানরের সাথে। তাছাড়াতো টিয়া, বুলবুলি, পানকৌড়ির মতো নানান প্রজাতির পাখি বনের ভেতরে আপনার সঙ্গী হয়ে থাকছেই।

Ratargul4
রাতারগুল যেতে হলে আপনাকে বেশ কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে। সেক্ষেত্রে আপনার ভ্রমণ সঙ্গী থাকলে তাকেও। এই বনে বর্ষায় জোঁক আর সাপের প্রকোপ খুব বেশি থাকে। তাই সতর্ক থাকাটা জরুরি। যারা সাঁতার জানেন না, তারা সঙ্গে লাইফ জ্যাকেট রাখতে পারেন। বনে ঢুকে পানিতে হাত না দেওয়াই ভালো। কারণ বিষাক্ত সব সাপ এখানে ঘুরে বেড়ায়! নৌকায় বসে কোন গাছের ডালে হাত দিতেও সতর্ক থাকুন। বনে পশু পাখিদের বিরক্ত করা উচিৎ নয়। ডিঙ্গি নৌকা নিয়ে জলপথ ছেড়ে বনের ভেতরে প্রবেশের সময় সতর্ক থাকুন।
রাতারগুলে থাকা-খাওয়ার কোন ব্যবস্থা নেই। যাওয়ার সময় হালকা পাতলা কিছু খাবার সাথে করে নিয়ে যেতে পারেন। আর থাকার জন্য সিলেটেই ফিরে আসতে হবে।

Share.

Leave A Reply