স্থানীয় লোকেরা বিশ্বাস করে যে অনেক আগে রাখাইন জনগোষ্ঠী এখানে প্রথম তাদের বসতি গড়ে তুলে। তৎকালীন সময়ে তারা সুপেয় পানির অভাবে পড়ে। এই সমস্যা দূর করার জন্য তারা কিছু কুয়া খনন করে। সেই থেকেই এই অঞ্চলের নাম হয়ে গেল কুয়াকাটা।

Kuakata

অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি সাগর কন্যা কুয়াকটা। একই স্থানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত অবলোকন করার মনোমুগ্ধকর পর্যটন স্পট। বঙ্গোপসাগরের ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের বিশাল সমুদ্র সৈকত পৃথিবীর বিরল। শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষাসহ সকল ঋতুতেই মৌসুমী পাখিদের কলরবে মুখোরিত থাকে সমুদ্রতট। একমাত্র কুয়াকাটাপর্যটন কেন্দ্রে এসেই প্রকৃতির সৃষ্ট সাগরের নানা রূপ বিভিন্ন ঋতুতে উপভোগ করা সম্ভব। তাইতো দেশ-বিদেশের অসংখ্য পর্যটন পিপাসুরা বছরের বিভিন্ন ঋতুতে বার বার ছুটে আসে কুয়াকাটায়। কৃত্রিমতার কোন ছাপ নেই এখানে। সে কারণেই পর্যটকরা কুয়াকাটায় এসে প্রকৃতির নিয়মের সাথে নিজের মনকে একাকার করে প্রকৃতির স্বাদ নিজ উপলব্ধিতে আত্মস্ত করতে মরিয়া হয়ে উঠে। বিজড়িত দৃশ্য, যা পর্যটকদের আকর্ষণ করে।

Kuakata4

একই স্থানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তেরদৃশ্য অবলোকন করা ছাড়াও রাখাইন সম্প্রদায়ের প্রায় দুইশত বছরের পুরানোঐতিহ্য শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ বিহারে প্রতিষ্ঠিত অপতার “গৌতম বুদ্ধের” বিশালআকৃতির মূর্তিসহ শ্বেত পাথরের নির্মিত ছোট-বড় অসংখ্য মূর্তি রয়েছে। আরাকানরাজ্য থেকে বিতারিত হয়ে আসা রাখাইন সম্প্রদায়ের লোকেরা তাদের রাজা মং এরনেতৃত্বে সাগর পাড়ি দিয়ে প্রথমে চট্রগ্রাম এবং পরে পটুয়াখালীর এজঙ্গলাকীর্ণ এলাকায় তাদের বসতি স্থাপন করে। নিজস্ব ঐতিহ্য ও কৃষ্টে গড়েতোলে নিজেদের আবাসস্থল। তৎকালীন সরকার রাখাইন সম্প্রদায়ের সদস্যদের ওই সময় ৩একর এবং তাদের নিজস্ব পল্লীব জন্যে ১২ একর করে সম্পত্তি প্রদান করেন। এখনও তাদের ঐতিহ্যবাহী কলাপাড়ায় বিদ্যমান আছে। কুয়াকাটার মিস্রিপাড়ায় অবস্থিত বৌদ্ধ মন্দিরের বৌদ্ধ মূর্তিটি দক্ষিন এশিয়ার সর্ববৃহৎ মূর্তি, যার উচ্চতা প্রায় ২১ ফুট। এই মূর্তিটির বয়স প্রায় ২০০ বছর। সাম্প্রতিককালে এই মন্দিরটি পুনঃনির্মাণ করা হয়েছে। কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত থেকে এর দুরত্ব প্রায় ৪ কিলোমিটার। আপনি যে কোন বাহনে চড়েই সেখানে যেতে পারবেন। তবে স্থানীয়ভাবে মোটর বাইক অনেক জনপ্রিয়। আপনি চাইলেই ভাড়া করে চালকের পেছনে চড়ে আপনার গন্তব্যে পৌঁছে যেতে পারবেন।

Kuakata3

ঢাকা কিংবা যশোর থেকে সরাসরি বিআরটিসি, দ্রুতি পরিবহন, সাকুরা পরিবহনসহ একাধিক পরিবহনের গাড়ীতে গাবতলী কিংবা সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে কুয়াকাটায় আসতে পারবেন। এছাড়া যে কোন স্থান থেকে রেন্ট-এ-কার যোগেও আসতে পারেন। তবে বরিশালের পর সড়ক যোগে কুয়াকাটায় পৌঁছাতে আপনাকে দপদপিয়া, লেবুখালী, কলাপাড়া, হাজীপুর ও মহিপুরসহ ৫টি ফেরী পারাপার হতে হবে। তবে যে সকল পর্যটকরা ঢাকা থেকে নৌ পথে কুয়াকাটায় আসতে চান, তারা ২ টি ফেরীর দূর্ভোগ থেকে রেহাই পেতে পারেন। ঢাকা সদরঘাট থেকে বিলাস বহুল ডাবল ডেকার এম.ভি পারাবত, এম.ভি সৈকত, এম.ভি সুন্দরবন, এম.ভি সম্পদ, এম.ভি প্রিন্স অব বরিশাল, এম.ভি পাতারহাট, এম.ভি উপকূল লঞ্চের কেবীনে উঠে সকালের মধ্যে পটুয়াখালী কিংবা কলাপাড়া নেমে রেন্ট-এ-কার যোগে এবং পটুয়াখালী-কুয়াকাটা রুটের বাসে চড়ে পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা পৌঁছাতে পারেন। ঢাকা থেকে উল্লেখিত রুট সমূহের লঞ্চ গুলো বিকাল ৫ থেকে সন্ধ্যা ৭ টার মধ্যে লঞ্চ ঘাট ত্যাগ করে থাকেন।

Kuakata2

নিচে কিছু আবাসিক হোটেলের তথ্য দেয়া হল-

১. হোটেল বনানী প্যালেস ফোনঃ- +৮৮ ০৪৪২৮৫৬০৪২ মোবাইলঃ- ০১৭১৩৬৭৪১৮৯, ০১৭১৩৬৭৪১৯২
২. হোটেল কুয়াকাটা ইন ফোনঃ- +৮৮ ০৪৪২৮৫৬০৩১ মোবাইলঃ- ০১৭৫০০০৮১৭৭, ০১৫৫৫০১২৫০০
৩. হোটেল নিলাঞ্জনা ফোনঃ- +৮৮ ০৪৪২৮৫৬০১৪, ১৫৬০১৮ মোবাইলঃ- ০১৭১২৯২৭৯০৪.

৪. কুয়াকাটাগেস্ট হাউজ ফোনঃ- +৮৮০৪৪২৮৫৬০২৪ মোবাইলঃ- ০১৭৩০১৮৯১৫২, ০১৭১৯৫৮৯৭৫২

কুয়াকাটার প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনাদের কোন মতামত ও প্রশ্ন থাকলে জানাবেন। আর ভ্রমনের সময় অবশ্যই সচেতন থাকবেন যেন আপনার দ্বারা পরিবেশ, প্রকৃতি তথা সমগ্র পর্যটন শিল্পের কোন ক্ষতি না হয়।

Share.

Leave A Reply