ধানসিঁড়ির তীরে

0

বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলা ঝালকাঠীর বিভিন্ন জায়গায় বর্ষা মৌসুমে বসে ভাসমান হাট। বর্ষা মৌসুমের প্রায় প্রতিদিন শত শত নৌকার সমাগম ঘটে এসব হাটে। কোথাও সবজির হাট, কোথাও মৌসুমি ফলের হাট, আবার কোথাও হয়তোবা নৌকার হাট। যারা হয়তো কাশ্মিরের ডাল লেক কিংবা থাইল্যান্ডে ভাসমান বাজার দেখেছেন, তারা হয়তো কিছুটা মিল খুঁজে পাবেন এসব বাজারের সঙ্গে। দু-একদিনের সময় নিয়ে এসব বাজার বেড়িয়ে আসতে পারেন এই বর্ষাকালে।

Vimruli_Jhalakathi

ঝালকাঠী জেলা শহর থেকে প্রায় পনের কিলোমিটার দূরে ভিমরুলি গ্রামে সপ্তাহের প্রতিদিনই পেয়ারা হাট বসে। এ হাটে সকাল থেকে প্রায় সন্ধ্যা অবধি বিকিকিনি চলে। পেয়ারা বোঝাই শত শত নৌকা এখানকার খালে ঘুরে বেড়ায় ক্রেতার আশায়। মূলত পাইকাররা এখানে ক্রেতা। এরা বড় ইঞ্জিন নৌকা নিয়ে বাজারে হাজির হয়ে ছোট ছোট নৌকার পেয়ারা কিনে ঢাকা কিংবা অন্য কোনো বড় শহরে চালান করে দেন। মূলত খালের একটি মোহনায় ভিমরুলি বাজারটি বসে। এখানে তিন দিক থেকে তিনটি খাল এসে মিশেছে। অপেক্ষাকৃত প্রশস্ত এ মোহনায়ই নৌকা বোঝাই ফল নিয়ে ক্রেতা খুঁজে বেড়ান চাষিরা। মূলত পেয়ারার বাগানেই ভরপুর আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা। আর এসব বাগান থেকে নৌকায় করে চাষিরা সরাসরি এ বাজারে পেয়ারা নিয়ে আসেন। পেয়ারার পরে এ বাজারে অবশ্য আসে আমড়া। এ অঞ্চলে আমড়ার ফলনও সর্বত্র। এ ছাড়াও বছরের অন্যান্য সময়ও এ বাজার অপেক্ষাকৃত কম লোকের সমাগমে ব্যস্ত থাকে। এ সময়ে এ বাজারের প্রধান পণ্য থাকে বিভিন্ন রকম সবজি। বাজারের উত্তর প্রান্তে খালের উপরের ছোট একটি সেতু থাকায় এখান থেকে বাজারটি খুব ভালো করে দেখা যায়। বাজারটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এখানে আসা সব নৌকাগুলোর আকার আর ডিজাইন প্রায় একইরকম। মনে হয় যেন একই কারিগরের তৈরি সব নৌকা। ভিমরুলির এ বাজারটির সবচেয়ে ব্যস্ত সময় হলো দুপর বারোটা থেকে তিনটে পর্যন্ত। এ সময়ে নৌকার সংখ্যা কয়েকশ ছাড়িয়ে যায়। ঝালকাঠী জেলা সদর থেকে মোটরবাইকে জায়গাটিতে আসতে সময় লাগে প্রায় আধাঘণ্টা। আর ইঞ্জিন নৌকায় এলে সময় লাগে এক ঘণ্টা।

Vimruli_Jhalakathi2

ভিমরুলি ভ্রমণ শেষ করে আপনি চলে যেতে পারেন কুড়িয়ানার নৌকার হাট। যদিও জায়গাটি নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠী) থানার ভেতরে কিন্তু আপনি চাইলে ঝালকাঠী থেকেও আসতে পারেন। মোটর বাইকে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগে এখানে আসতে। আর দুই ঘণ্টার মতো সময় লাগবে যদি আপনি ইঞ্জিন নৌকায় আসেন। এখানে বর্ষা মৌসুমে মূলত বসে নৌকার হাট। জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে নৌকার কারিগররা এখানে আসেন তাদের তৈরি করা নৌকা বিক্রি করতে। বিশাল জায়গাজুড়ে এখানে শত শত নৌকায় পরিপূর্ণ হয় এ হাট। সপ্তাহের প্রায় প্রতিদিনই এ হাট বসলেও শুক্রবারে এখানে ক্রেতা-বিক্রেতার সম্মিলন ঘটে বেশি। বড় একটি নৌকার উপরে ছোট ছোট অনেক নৌকা এনে এখানকার খালে ভাসিয়ে ক্রেতার অপেক্ষায় থাকেন বিক্রেতারা। এক হাজার থেকে দশ হাজার টাকায় এ হাটে পাওয়া যায় বিভিন্ন আকারের নৌকা। বর্ষায় এ অঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় পানি বেড়ে যাওয়ায় চলাচলের জন্য অনেকেরই নৌকার প্রয়োজন হয়। তাই অনেকেই বর্ষাকালে এ হাটে আসেন নৌকা কেনার জন্য।

Kuriana_Floating_Market

আটঘর থেকে প্রায় চার কিলোমিটার সামনে আটঘর-কুড়িয়ানার পেয়ারার হাট। এটিও মূলত ভাসমান বাজার। বিভিন্ন জায়গা থেকে ছোট ছোট নৌকায় পেয়ারা নিয়ে এখানে হাজির হন চাষিরা। বাজারে আসার সঙ্গে সঙ্গেই নৌকা বোঝাই পেয়ারা বিক্রি হয়ে যায় দ্রুত। কারণ পাইকাররা এখানে চাষিদের জন্য অপেক্ষায় থাকেন। এ বাজারটিও আকারে বেশ ্বড়। এ বাজারের আশপাশেই দেখা যাবে বড় বড় পেয়ারার বাগান। বাগানগুলো সাধারণত ছোট ছোট নালার দুই পাশে। চাষিরা ছোট নৌকা নিয়ে নালার মধ্যে ঢুকে গাছ থেকে পেয়ারা সংগ্রহ করে থাকেন।

 

 

 

Share.

Leave A Reply